যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে হাজারো বাসিন্দা। বন্ধ রাখা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ।
হাওয়াইয়ের গভর্নর যশ গ্রিন এই দাবানলকে ‘হাওয়াইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রিন জানান,মাউই দ্বীপের পশ্চিম উপকূলীয় পর্যটন শহর লাহাইনার ৮০ শতাংশ ‘শেষ হয়ে গেছে’, প্রায় ১৭০০টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঠিক কতোজন নিখোঁজ রয়েছেন তার প্রকৃত সংখ্যা কর্তৃপক্ষের জানা নেই। তাদের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটি প্রায় ১০০০ হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকজনকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শত শত বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। এদের অধিকাংশই লাহাইনার বাসিন্দা। তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য ২০০০ ঘরের ব্যবস্থা করতে বলেছেন গভর্নর গ্রিন। পাশাপাশি সম্ভব হলে গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মাউই কাউন্টির কর্মকর্তারা এক অনলাইন বিবৃতিতে বলেন, দমকলকর্মীরা আগুনের নেভাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। লাহাইনা শহরের বাসিন্দাদের প্রথমবারের মতো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বাড়ি ফিরতে দেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া এক হাজার ভবন থেকে কুকুর নিয়ে অনুসন্ধানকারী দলগুলো এখনও আরও মরদেহ খুঁজে পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণের জন্য বহু বছর ও বিলিয়ন ডলার লেগে যেতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক শিহাব রাতানসি মাউই থেকে জানান, শুক্রবার দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে বাসিন্দাদের লাহাইনায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া পর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আগুন যে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, এটি থেকে বোঝা যায়।